আমি যখন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হই তখন ২০০১। অল্প কিছু দিন পরেই বাবা
চাকুরী থেকে অবসর নেন। খুব সীমিত টাকা পাঠাতেন। যতটা না হলেই না ঠিক ততটা। আমি এরই
ফাঁকে হঠাৎ করেই যেন বড় হয়ে গেলাম। তখন আমি বাঁধন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের
প্রতিষ্ঠাতা সাধারন সম্পাদক, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ডিবেট অর্গানাইজেশন এর প্রতিষ্ঠাতা
সভাপতি। জড়িত ছিলাম একটি কেন্দ্রিয় বিতর্ক সংগঠনের সাথেও। প্রেম করাও শুরু করেছি।
সিগারেট ও ধরেছি। অনেক ছোট ভাই ফ্যান ফলোয়ার।
প্রায় প্রতিদিনই ঢাকা থেকে কেউ না কেউ আসছে বেড়াতে। সবকিছু বাদ দিলেও শুধু চা এর
খরচ মেটাতে আমাকে হিমশিম খেতে হত সবসময়। ক্যাম্পাস এর কিছু পিচ্চি ছিল। চা বিক্রি
করত। ফ্লাস্ক ভেঙ্গে গেলে রাতে আল বেরুনি হলের ৮০৩ রুমের সামনে। কোন রিকশাওয়ালা
অসুস্থ, মামুন এর কাছে গেলে টাকা পাওয়া জাবে। ভয়ানক বিপদ। মুখে কিছু বলতে পারি না
অথচ পরে কষ্ট হত। আর্থিক।
ভয়ানক বাতিক ছিল বই কেনার। সাধ ছিল কিন্ত সাধ্য ছিল খুব কম। কিন্তু তারপর ও
মাঝে মাঝে পাগলামি করে ফেলতাম। মনে আছে যে শরদিন্দু এর ব্যোমকেশ সমগ্র কেনার পরে
রাতে হলে ফিরে খুব চিন্তায় পড়ে গেছিলাম। বাকি সপ্তাহ কেমন করে চলবে!
এর মানে কিন্তু এই নয় যে আমাকে অনেক অর্থ কষ্টে থাকতে হয়েছে। যখন টাকা
চেয়েছি তখনই বাবা টাকা পাঠিয়েছেন। কিন্তু কত আর চাওায়া যায়। বন্ধু অথবা সংগঠনের চা
এর খরচ এর জন্য তার কাছে টাকা চাইতে ইচ্ছা করত না।
প্রতি মাসে একটা ডি ডি আসতো। ১৭ থেকে ২০ তারিখের মধ্যে শেষ। অবশ্য খাবার
সমস্যা হত না। টাকা আসার সাথে সাথে ডাইনিং আর ক্যান্টিনে টাকা দিয়ে দিতাম। সমস্যা
ছিল ক্যাশ টাকার।
তারপর হটাত এক মাসে............
২৭ তারিখ বিকেলে পোস্ট অফিসের মামা দরজায় টোকা দিলেন। চিঠি এসেছে। খামের
ওপর হাতের লেখা দেখে বুজলাম মেঝভাই এর । চিঠি খুলতেই দেখি কাগজের ভাজে চকচকে দুটো
১০০ টাকার দুটো নোট। চিঠিতে লেখা যে ইচ্ছামত খরচ করিস। এর পর থেকে প্রতি মাসের
শেষে এই চিঠি এর নিয়মিত অপেক্ষা থাকতো। অস্থির এক অনুভূতি।
আজ যত টাকাই রোজগার করি না কেন ওই ২০০ টাকার ফ্লেভার ভুলতে পারি না। ব্যাংক
এ চাকুরী করার কারনে এখন মাসের বেতন হয় ২৫ তারিখে। বেতনের টাকা টা হাতে নিয়ে মাঝে
মাঝে সেই হারিয়ে যাওয়া ২০০ টাকার গন্ধ খুজে ফিরি......
No comments:
Post a Comment